Page Nav

HIDE

Grid

GRID_STYLE

Classic Header

{fbt_classic_header}

সদ্য পাওয়া

latest

ঘুড়ি তুমি কার আকাশে উড়ো

পাখিরা ডানা মেলে উড়াল দেয় আকাশে। আর উড়াল দেয় ঘুড়ি। পাখির মতো ইচ্ছা স্বাধীন দূরে যেতে পারে না ঘুড়িরা। কারণ নাটাই তো থাকে মানুষের হাতে। ...

পাখিরা ডানা মেলে উড়াল দেয় আকাশে। আর উড়াল দেয় ঘুড়ি। পাখির মতো ইচ্ছা স্বাধীন দূরে যেতে পারে না ঘুড়িরা। কারণ নাটাই তো থাকে মানুষের হাতে। তুমি শহর কিংবা গ্রামে যেখানেই থাকো ঘুড়ি ওড়ানোর মজা একবার পেলেই হলো। পাখির মতো হাওয়ায় ডানা মেলবে বলে তোমাকে টেনে নিয়ে যায় ঘরের বাইরে। ঘুড়ির দিকে তাকিয়ে কখনো কখনো আনমনা হয়ে যাবেই তুমি ইস্! এমন করে যদি উড়তে পারতাম! আজ তাহলে এসো এই ঘুড়ি সম্বন্ধে কিছু জেনে নেয়া যাক।
যেভাবে ঘুড়ি এলো : সেই প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। গাছের পাতা দিয়ে তৈরি হতো তাদের ঘুড়ি। তবে ঘুড়ির আবিষ্কারকের নাম কিন্তু জানা যায়নি আজ অবধি। কোন্ দেশ প্রথম ঘুড়ি উড়িয়েছিল তা নিয়েই রয়েছে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক। চীন, জাপান আর গ্রিস হচ্ছে প্রথম ঘুড়ি ওড়ানোর দাবিদার। এই তালিকায় আছে কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের নামও। ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গ্রিসের ট্যারান্টাস শহরে প্রথম ঘুড়ি ওড়ানোর দাবিদার হচ্ছেন বিজ্ঞানী আরকিয়াটাস। আবার গ্রিসের অনেক আগে থেকেই চীনারা ঘুড়ি ওড়াতো বলে দাবি করে। ৩০০০ বছর আগে এর সূচনা নাকি তারাই করেছিল। রেশম গুটি থেকে সুতো কিভাবে তৈরি করতে হয় সেটাও চীনাদের আবিষ্কার বলে কথিত আছে। বাঁশের আগায় রেশমগুটি থেকে তৈরি পেঁজা তুলো বেঁধে বাতাসে উড়ানো থেকেই গাছগাছালির বড় বড় পাতা উড়ানোর দিকে ঘুড়ির ধারণা সম্প্রসারিত হয়ে থাকতে পারে। তারপর এক সময় কাপড় ও কাগজে রূপান্তরিত ঘুড়ি হয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন প্রায় সমসাময়িককালে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ভারতবর্ষে সুতোয় বৃক্ষের পাতা বেঁধে বাতাসে ঘুড়ির মতো উড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। বালি দ্বীপে এখনো ঐহিত্য অনুসারে এই পাতার ঘুড়ি উড়ানো হয়। এক সময় পলিনেশীয় সামুদ্রিক নাবিকদের দ্বারা এই ঘুড়ির ধারণা অন্যান্য মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কাজেই ধরা যেতে পারে যে, ঘুড়ির আদি স্থান হচ্ছে এশিয়া মহাদেশ।
ঘুড়ি ওড়ানোর সময় : শরৎ ঋতুকে গ্রামবাসী তাদের ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য বেছে নেয়। শরতের নির্মল আকাশ আর বাছুর নিয়ন্ত্রিত বেগ ঘুড়ি উড়ানোর পরিবেশ সৃষ্টি করে। তবে কোনো কোনো স্থানে বিশেষ করে ঢাকা শহরে শীতের পর বসন্তে যখন এলোমেলো বাতাস বয়, তখন ঘুড়ি ওড়ানো হয়ে থাকে। তবে বর্ষার রেশ থাকতে থাকতে শরৎ ঋতুই হচ্ছে ঘুড়ি ওড়ানোর মওসুম।
নানান দেশে নানান ঘুড়ি : আজকের দিনে দুনিয়ার প্রায় সব দেশেই ঘুড়ি ওড়ানো হয়। হাজার রকমের ঘুড়ি আছে দুনিয়াজুড়ে। আর ঘুড়ি নিয়ে রয়েছে নানান গল্প। চীন, জাপান ও তাইওয়ানে ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে রীতিমতো উৎসব হয়ে থাকে। সেদিন সরকারি ছুটিও থাকে। ঘুড়িকে পবিত্রতার প্রতীক মনে করে মালয়েশিয়ার মানুষ। তাদের বিশ্বাস ঘুড়ি হচ্ছে ভূত-প্রেতের ওঝা। যেসব বাড়িতে ঘুড়ি ওড়ানো হয় সেসব বাড়ির ধারেকাছেও নাকি ভূত বা দুষ্ট জিন ঘেঁষে না। নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা দুষ্ট জিন তাড়ানোর জন্য মাওরি নামের এক ধরনের ঘুড়ি ওড়ায়। এই ঘুড়ির মধ্যে রয়েছে নানা রকম ছিদ্র। ওসব ছিদ্রে ধাতব পাত বসানো থাকে। ওড়ার সময় বাতাস এসে ওই ছিদ্রে ঢোকে আর অদ্ভুত শব্দ হয়। ওই শব্দেই নাকি ভূতেরা অর্থাৎ দুষ্ট জিনেরা পালায়।


No comments