Page Nav

HIDE

Grid

GRID_STYLE

Classic Header

{fbt_classic_header}

সদ্য পাওয়া

latest

অসুস্থ স্বামীকে সিঁড়ির নিচে রেখে সকালে খালি পেটে বেরিয়ে পড়েন, আমিরুন্নেছা

অসুস্থ স্বামীকে সিঁড়ির নিচে রেখে স্ত্রী সকালে খালি পেটে বেরিয়ে পড়েন। অন্যের কাছে হাত বাড়িয়ে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে একবেলা খেয়ে, আরেক বেলা না খ...

অসুস্থ স্বামীকে সিঁড়ির নিচে রেখে স্ত্রী সকালে খালি পেটে বেরিয়ে পড়েন। অন্যের কাছে হাত বাড়িয়ে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে একবেলা খেয়ে, আরেক বেলা না খেয়ে চলে দুজনের সংসার। সংসার বলতে যা বোঝায়, তার কিছুই আর তাঁদের নেই। ভিটা নেই, ঘর নেই। এই বয়সে এসে তাঁদের সংসার আর জীবন একাকার হয়ে গেছে।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার মো. আজহার আলী (৯৪) ও আমিরুন্নেছা (৭০) দম্পতি সরকারি কোনো সহযোগিতা পান না। আদৌ পাবেন কি না তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালীর সুবিধপুর গ্রামের ভোটার তালিকায় আজাহার ও আমিরুন্নেছার নাম আছে। তবে সেখানে তাঁদের বসতি নেই। কখনো অন্যের ঘরের বারান্দায়, কখনো রাস্তার পাশে তাঁরা রাত কাটান। দিনে মানুষের কাছে হাত পেতে অন্নের সংস্থান চলে। সম্প্রতি রাত হলে এ দম্পতি উপজেলা পরিষদের পুরনো ভবনের সিঁড়ির নিচে থাকেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, আজাহারের জন্ম তারিখ ১০ ডিসেম্বর ১৯২৩। এক ছেলে দুলাল সিকদার আলাদা হয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। সে মা-বাবার খোঁজ নেন না। এক মেয়ে মাহফুজা বেগম বিয়ে করে স্বামীর সংসারে। ফলে বৃদ্ধ এই দম্পতিকে দেখার মতো কেউ নেই।

বয়সের বাড়ে ন্যুব্জ আজাহার আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পোড়া কপাল! চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভোট দিলেও আমাগোর কোনো কাজ অয় না। গত ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে ভোট দিতে যাইয়া মোর পা ভাঙছে। হের পরও মুই কিছুই পাই নাই। অ্যাহনো মোর পায়ে ব্যথা। মুই খাড়াইতে পারি না। ধলু ব্যাপারী আর মোস্তফা মিলে মোর বসতির ৪১ শতাংশ জমি দহলে নিয়া গেছে। অহন মুই পথের ফহির (ফকির)। ’

স্ত্রী আমিরুন্নেছা বলেন, ‘হুনছি অনেক মাইনসেরে সরকার ঘর দেছে। মোগো একখান ঘর দ্যায়না ক্যা?’

কাউখালী উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আবদুল লতিফ খসরু বলেন, ‘বৃদ্ধ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁদের স্থায়ী কোনো ঠিকানা নেই। তাঁরা উপজেলা পরিষদের সিঁড়ি ঘরে রাত কাটান। তাঁদের এক মাসের খাবার (চাল ও আনুষঙ্গিক বাজার) ও ইফতারসামগ্রী তুলে দিয়েছি। এটা ক্ষুদ্র সহায়তা। তবে সহায়-সম্বলহীন এ বৃদ্ধ দম্পতির বসতির জন্য ঘর ও বয়স্কভাতা অতি জরুরি। ’

কাউখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী গোলাম কবির বলেন, ‘বৃদ্ধ এ দম্পতি খুব অসহায়। গত শীতে তাঁদের দুরবস্থা দেখে ব্যক্তিগতভাবে আমি কম্বল দিয়েছি। তাঁরা পথেঘাটে থাকেন। বয়স্কভাতা কেন পাচ্ছেন না, তা খোঁজ নিয়ে উদ্যোগ নেব। ’

চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তারা কেউ আমার কাছে আসেনি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। জুন-জুলাইয়ে তাঁদের বয়স্কভাতার তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা নেব। ’

কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির বলেন, ‘এ দম্পতিকে চরের আবাসনে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আশ্রয় দিলে বয়সী দুই মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। মানবিক কারণে আপাতত তাঁরা উপজেলা পরিষদের পুরনো ভবনের সিঁড়ি ঘরে আছেন। বসতি ও বয়স্কভাতার জন্য উদ্যোগ নেব।