Page Nav

HIDE

Grid

GRID_STYLE

Classic Header

{fbt_classic_header}

সদ্য পাওয়া

latest

সোনারগাঁয়ের পানি দূষণ ও পরিবেশ রক্ষায় এমপি খোকা মাঠে

জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর যখন চৈতী কম্পোজিটের বিষাক্ত বর্জ্য নিস্কাশনে ব্যর্থ তখন লাখো জনতার পক্ষে মাঠে নামলেন এমপি খ...



জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর যখন চৈতী কম্পোজিটের বিষাক্ত বর্জ্য নিস্কাশনে ব্যর্থ তখন লাখো জনতার পক্ষে মাঠে নামলেন এমপি খোকা। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে টিপুরদী এলাকায় অবস্থিত চৈতি কম্পোজিট কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি চৈতি গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ আবুল কালাম ইটিপি ব্যবহার না করেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের চোখের সামনে বিষাক্ত বর্জ্য নিস্কাশন করছে। এতে খালের পানিতে মিশে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ৩০ গ্রামের প্রায়  লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, ২০০৬ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা এলাকায় চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড কারখানাটি সুতা উৎপাদন ও সুতা রং করার কাজ শুরু করে। কিন্তু এ কারখানাটির তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) বন্ধ থাকায় উৎপাদিত সুতা তৈরি ও সুতা রং করার তরল বর্জ্য মারিখালি নদীর সংযোগ খালের পানিতে মিশছে। এলাকার পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কারখানা থেকে ছেড়ে দেওয়া বর্জ্যে খালের পানিতে মিশে বিষাক্ত হয়ে মোগরাপাড়া, বাড়ি মজলিশ, গোহাট্রা, ফুলবাড়িয়া, ষোলপাড়া, দমদমা, কাবিলগঞ্জ, দলদার, লেবুছাড়া, ভাটিপাড়া, বিন্নিপাড়া মনাইর কান্দী, টেকপাড়া,মুগাচর, কাজিরগাও,চৌধুরীগা, রামগোবিনদের গাও,শম্ভু পুরা ইউনিয়নসহ পৌর এলাকার মল্লিক পাড়া, টিপরদি, রতনদি, গোয়ালদি, পানাম, আদমপুর, গোবিন্দপুরসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই বিষাক্ত পানি ব্যবহার করে এলাকার মানুষের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো ফলাফল পাননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০০৮ সালের ৪ মার্চ পরিবেশ দূষণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর ও যৌথবাহিনী এ কারখানায় অভিযান চালিয়ে উৎপাদন বন্ধ ও সিলগালা করে দেয়। পরে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এবং ইটিপি স্থাপনের মাধ্যমে বন্ধ কারখানাটি আবার চালু করা হয়।

স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর লায়ন মোশারফ জানান, নামমাত্র ইটিপি থাকলেও তা ব্যবহার করছে না। ঘন্টায় সর্বনিম্ন ৭০ হাজার লিটার বিষাক্ত বর্জ্য গোপন সুরঙ্গের মাধ্যমে সরাসরি খালে ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে এই কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত খালের পানি আবারও বিষাক্ত হওয়ায় কারখানাটি এলাকার মানুষের কাছে অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, প্রতিলিটার বর্জ্য শোধন করতে খরচ পরে ১৪ টাকা। হিসাবমতে ৭০ হাজার লিটারে খরচ প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে অনুপাতে কারখানাটি ইটিপি বন্ধ রেখে, সরকারকে ফাঁকি দিয়ে, পানি ও পরিবেশ দূষণ করে, লক্ষাধিক মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ফেলে প্রতি  মাসে ৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় করছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সোনারগাঁও পৌর এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি নিষ্কাশনের লাইনের মাধ্যমে ডাইং মিলের লাখ লাখ লিটার বিষাক্ত পানি গোপনে নদী-খাল-বিলে ফেলতে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়েছেন সোনারগাঁও পৌরসভার ৯ জন কাউন্সিলর। চৈতী কম্পোজিট কোম্পানির বিষাক্ত বর্জ্য স্থানীয় মেঘনা ও শাখা নদীতে ফেলতে এ কোটি টাকার গোপন চুক্তি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ করতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁও পৌরসভার টিপুরদী এলাকার পৌরসভার পানি নিস্কাষন লাইন পরিদর্শন করেন। এসময় চৈতী কম্পোজিটের গড়ে তোলা গোপন সুরঙ্গের সন্ধান বের করেন। অবিলম্বে জনবিরোধী কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দাখিলের দাবি জানান। পৌরবাসীর দাবি, জনপ্রতিনিধিরা জনগণকে জিম্মি করে, জনগণের ক্ষতি করে গোপনে অর্থ লেনদেন করেছে।

চৈতী কম্পোজিটের মিলের পানি ও পরিবেশ দূষণ চক্রের অন্যতমসোনারগাঁও পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কমিশনার মোতালেব হোসেন ২ নং ওয়ার্ড কমিশনার আবু নাইম আহমেদ রিপন, ৫ নং ওয়ার্ড কমিশনার দুলাল, ১ নং ওয়ার্ডের শাহজালাল, ৬ নং ওয়ার্ডের রফিক, ৮ নং ওয়ার্ড কমিশনার ফারুক আহমেদ তপন, ৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার মনিরুজ্জামান মধু, মহিলা কাউন্সিলর পারভিন আক্তার ও রিতা আক্তারের নাম এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছে।

সোনারগাঁ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন কোম্পানীর সাথে গোপনে বিরাট অংকের টাকার বিনিময়ে এবং মাসোহারা চুক্তিতে তার বাড়ির নিচ দিয়ে তিনটি ড্রেন সংযোগের মাধ্যমে প্রতি ঘন্টায় ৭০ হাজার লিটার বিষাক্ত বর্জ্য পানি পৌর সভার পানির ড্রেন ব্যবহার করে মেঘনা নদীর শাখা নদী মেনিখালী, পঙ্খিরাজ খাল ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদে ছাড়ছে। কিন্তু মোশারফ হোসেন কাউন্সিলর নির্বাচিত না হওয়ায় এবং তারই চাচাতো ভাই মোতালেব হোসেন নির্বাচিত হয়ে মোশারফের মাসোহারাসহ চৈতী থেকে সব রকম সুযোগ বন্ধ করে দেয়ায় সে তারই হাতেগড়া গোপন সুরঙ্গপথ সকলের কাছে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানান।