Page Nav

HIDE

Grid

GRID_STYLE

Classic Header

{fbt_classic_header}

সদ্য পাওয়া

latest

হার্ট অ্যাটাকের 7টি সাধারণ সতর্কতা লক্ষণ যা আপনি মিস করতে পারেন

  হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কম তীব্রতার সাথে শুরু হতে পারে অথবা নাও হতে পারে। অনেক সময় লক্ষণ সমূহ স্বাস্থ্যের ছোটখাটো অসুস্থতার মত সাদৃশ্যপূর্ণ...


 

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কম তীব্রতার সাথে শুরু হতে পারে অথবা নাও হতে পারে। অনেক সময় লক্ষণ সমূহ স্বাস্থ্যের ছোটখাটো অসুস্থতার মত সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, আর তাই লোকজন অনেক সহজেই তাদের উপেক্ষা করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখা যায়, যা প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। তবে, অন্যান্য ক্ষেত্রে, অ্যাটাকের কয়েক দিন আগে পর্যন্ত এই লক্ষণগুলো দেখা দেয় না, যার ফলে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ কম হয়। এছাড়াও, যদি অস্বস্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায় তবে এটি মারাত্মক পর্যায়ে পর্যবসিত হতে পারে। এই নিঃশব্দ এবং অনি্শ্চিত বৈশিষ্ট্যের কারণে হার্ট অ্যাটাকের সতর্কতায় লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতার জন্য উদ্বেগী হওয়া প্রয়োজন।


1. বুক ব্যাথা:


বুকে ব্যথা, বা এনজাইনা প্যাকটোরিস হার্ট অ্যাটাকের একটি সর্বোত্তম লক্ষণ। ব্যথা প্রায়শই মাঝামাঝি অথবা বগলের কাছাকাছি কাছাকাছি অনুভূত হয় এবং খুব সহজেই পেশীর খিঁচুনি বলে বিভ্রান্তি হতে পারে। অ্যাটাকের তীব্রতার উপর নির্ভর করে, ব্যথার তীব্রতা পরিবর্তিত হয়। কিছু রোগী হালকা জ্বালাময় ব্যথা অনুভব করেন, আবার অনেকে অ্যাটাকের সময় গভীর, খুঁচানো বা ছুরিকাঘাতের মত ব্যথার অভিযোগ করেন। যদিও বুকে ব্যথা হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারণ লক্ষণ, তবে সব ক্ষেত্রেই এরকম ঘটে না। চিকিৎসকরা লক্ষ করেছেন যে প্রায় 10% মহিলা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বে বা অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা অনুভব করেন না।


2. চোয়াল, ঘাড়, কনুই এবং পিঠে ব্যথা:


কিছু ক্ষেত্রে, ব্যথার সংবেদন মেরুদণ্ডে (স্পাইনাল কর্ড) ভ্রমণ করে, যেখানে এটি স্নায়ুর পথের (নার্ভ পাথওয়ে) সাথে মিশে যায়, তার ফলে ব্যথাটি বুকের চারপাশের কিছু অংশে প্রসারিত হয়। এটি পুরো বাহু, পিঠের উপরের দিকে এবং এমনকি চোয়ালে দৃঢ়়তা (টাইটনেস), অসাড়তা (নাম্বনেস) অথবা ভারাক্রান্ত (হেভিনেস) রূপে উপস্থাপিত হতে পারে।


3. নিঃশ্বাসে দুর্বলতা:


অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই শ্বাস নিতে অসুবিধার অভিযোগ করেন। হার্ট অ্যাটাকের ঠিক পূ্র্বে যে শ্বাসকষ্ট হয়, তার সাথে বুকে ব্যথা হতে পারে বা নাও হতে পারে।


4. ক্লান্তি:


দুর্বলতা, ক্লান্তি বা হালকা মাথাব্যথা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পূর্বের চিহ্ন হিসাবে সাধারণ বিভ্রান্তি রয়েছে। স্ট্রেস বা শ্রমের কারণে ঘটিত সাধারণ ক্লান্তিকে মানুষ প্রায়শই এটির সাথে বিভ্রান্তি করে। অ্যাটাকের পূর্বে প্রচণ্ড ক্লান্তি পায় কারণ হৃৎপিণ্ডের পেশী গুলিতে অক্সিজেনের অভাব হয়, যার ফলে শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।


5. ঠান্ডা ঘাম:


স্যাঁৎসেতে ঘাম তার ক্লান্তি মিলিত হওয়া, হার্ট অ্যাটাকের আরও একটি লক্ষণ। পরিশ্রমের মাত্রা বা আবহাওয়ার কারণ ছাড়াই, অনুপাতের বাইরে ঘাম হওয়া। হাঁটার মতো সাধারণ কাজেই দুর্বলতা হয়, সাথে ঘাম হতে পারে। এটি আদতে প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন পূর্বেই উপস্থিত হতে পারে।  


6. ঘুমের ব্যাঘাত:


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টের কারণে, ফলে শ্বাসরোধ হয় যা হৃদপিণ্ডের পেশীর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পূর্বে, স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা দিতে পারে।


7. বমি ভাব এবং বমি:


অনেক হার্ট অ্যাটাক থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি বলেন যে, অ্যাটাক হওয়ার পূর্বে তাদের বদহজমের মতো লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে, অনেক কম পরিশ্রমে সৃষ্ট শ্বাসকষ্টের পরে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দেয়, যা বমি ভাব এবং বমি বোধ হিসাবে উপস্থাপিত হয়।


দয়া করে মনে রাখবেন যে কেবলমাত্র উপরের লক্ষণগুলোই হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ নয়। প্রতিটি রোগী তাদের বয়স এবং আক্রমণের তীব্রতার উপর নির্ভর করে লক্ষণগুলো ভিন্নরকম ভাবে অনুভব করেন। অধিকন্তু, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে ভিন্নরকম হয়। সুতরাং, কেবল এই লক্ষণগুলির উপর নির্ভর করবেন না। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক চিহ্ন হল, আপনি কেমন বোধ করছেন সেটির হঠাৎ করে এবং অত্যন্ত আকস্মিক পরিবর্তন। আপনি যদি অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন তবে নিজে চিকিৎসা করবেন না। অবিলম্বে চিকিৎকের সাহায্যের জন্য ছুঁটে যান!